নিজস্ব প্রতিবেদক।
জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে এক সাংবাদিক দাবি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য সুবিধা “কড়ায় গণ্ডায়” নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, ৫৫ বছরের ইতিহাসে সাংবাদিকরা বারবার বঞ্চিত হয়েছেন; তাদের মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নে কোনো সরকারই কার্যকর ভূমিকা নেয়নি।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের সবসময় “জাতির বিবেক” বলে সম্বোধন করা হলেও বাস্তবে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হয়েছে। তারা দাবি করেন, সরকারগুলো কেবল আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো টেকসই উদ্যোগ নেয়নি। ফলে সাংবাদিক সমাজ আজ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা জানান, সাংবাদিকদের সমস্যা নিয়ে তথ্য মন্ত্রী ইতোমধ্যে সাংবাদিক তালিকা প্রণয়ন ও সুরক্ষা আইন নিয়ে আলোচনা করেছেন, যা তারা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা প্রধান উপদেষ্টা/প্রধানমন্ত্রী ও তথ্য মন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, কেবল “কুলীন সাংবাদিক” বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মতামতের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ না করে দেশের ৬৩ জেলার সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যা শুনতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা, সাংবাদিক তালিকা প্রণয়ন ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করার আহ্বান জানান তারা।
তারা আরও দাবি করেন—
গণমাধ্যমকে পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে ঘোষণা
অকার্যকর প্রেস কাউন্সিলকে যুগোপযোগী করা
তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধন কাঠামো শক্তিশালী করা
গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ
সমাবেশে বলা হয়, জাতীয় গণমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ১৪ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। বক্তাদের মতে, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে দেশের গণমাধ্যম খাতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশ সোশ্যাল মিডিয়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লায়ন মো. শফিকুল ইসলাম সাইমন, ওমর ফারুক জালাল, মঞ্জুর হোসেন ঈশা, কবি অশোক ধর, জহিরুল ইসলাম, সুজন মাহমুদ, আবু বকর সিদ্দিক, মিজানুর রহমান মোল্লা, বীথি মোস্তফা, গাজী মামুনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেনসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা অবিলম্বে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে একটি শোভাযাত্রা জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।